মনপুরা উপকূলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক যোগদান করলে সঙ্কট কিছুটা দূর হবে। তারপরও দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও যোগদানের বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি

Location :

Bhola
৩৫ নম্বর চরফৈজুদ্দিন উড়িরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, (ডানে) পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে ক্লাস
৩৫ নম্বর চরফৈজুদ্দিন উড়িরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, (ডানে) পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে ক্লাস |নয়া দিগন্ত

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপকূলে শিক্ষক সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের একাধিক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

কোথাও একজন শিক্ষক আবার কোথাও দু’জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপকূলে ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫টিতে প্রধান শিক্ষক রযেছে। ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অপরদিকে সহকারী শিক্ষককের ৩০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে না। আবার কোথাও একজন শিক্ষক গণিত, ইংরেজী ও বিজ্ঞানের মতো ক্লাস নিচ্ছেন। আবার কোথাও একজন শিক্ষককে একই সময়ে একাধিক ক্লাস নিতে দেখা যায়।

অনেক সময় শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে দেখা যায়। কোথাও শিক্ষক সঙ্কটে ক্লাস না হওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।

বিভিন্ন স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। আবার অনেকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল বলে অভিমত জানান।

এই ব্যাপারে মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আজাদুর রহমান জানান, প্রাথমিকে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। তারপরও সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানা সঙ্কট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সরকার শিগগিরই এই সমস্ত পদে শিক্ষক পদায়ন করে সঙ্কট দূর করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আসরাফ জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক যোগদান করলে সঙ্কট কিছুটা দূর হবে। তারপরও দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও যোগদানের বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি ও হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমকি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি। তাই দ্রুত শিক্ষক সঙ্কট দূর করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও এর প্রভাব পড়বে।

বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পদায়ন করে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষারমান বজায় রাখার আহ্বান স্থানীয় বাসিন্দাদের।