ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১১ মাসে ডাকসু এমন কিছু কাজ করেছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আগে কেউ করতে পারেনি।
শুক্রবার পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কীভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। শিক্ষার্থীরাই বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১১ মাসে ডাকসুতে যে কাজ করেছি, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১০৫ বছরেও কেউ করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে ডাকসুর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব জরিপে ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেছেন, ডাকসু দায়িত্ব নেয়ার পর ক্যাম্পাসে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন। ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর ভিপি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা, চিন্তাভাবনা, প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করা। দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডাকসু কাজ করেছে।
দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে দেশের নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তারা তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেভাবে ভাবা এবং তাদের যেভাবে স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন ছিল, তা দিতে পারেননি।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিনের এই ব্যর্থতার কারণে জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। দেশে তাদের মেধার বিকাশ ও তা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহর কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান সাদিক কায়েম।
দুই পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৬ জন এবং ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে তাদের হাতে ক্রেস্ট, স্কুলব্যাগ ও কলম তুলে দেন অতিথিরা।
পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



