নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও রূপগঞ্জ সংবাদদাতা
মেঘনা নদীর পানি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শোধন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা মেটাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। গন্ধর্বপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে অবস্থিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে শুধু বিশুদ্ধ পানির সরবরাহই বাড়বে না, একই সাথে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ সম্পন্নের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এসময় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে আরো ৫০ কোটি লিটার পানি প্রকল্পে যুক্ত হবে। ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে, রূপসী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সেজান পয়েন্ট সংলগ্ন প্রকল্পের পিকে-১৭ অংশের চলমান কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার। এ সময় তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
এসময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো: মনিরুজ্জামান, সহকারী একান্ত সচিব কৃষিবিদ মো: ইউনুস আলী, জনসংযোগ কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ চয়ন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পটির প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সংশোধিত ব্যয় বাড়িয়ে আট হাজার ১৫১ কোটি টাকায় করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০২২ এর জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছিল।



