চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি মশাল মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সাজু আহমেদ রিংকুর নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিছিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুলিশ হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তবে মিছিলটি ঠিক কখন এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোরের কোনো এক সময়ে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের মতে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য কর্মসূচি এলাকায় অস্বস্তি ও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি কোথায়, কখন এবং কীভাবে ঘটেছে তা এখনো নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু বলেন, ‘শহরের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের এ ধরনের মিছিল কাম্য নয়। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



