জামালগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বরাদ্দ চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ

কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ওজনে কম দেয়া এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে কৌশলে টাকা আদায় করা হয়েছে।

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ

Location :

Sunamganj
০১ নং বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদ
০১ নং বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদ |নয়া দিগন্ত

হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের চাল ও হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে টাকা আত্মসাৎ-এর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন কৃষক স্বাক্ষরিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই লিখিত প্রদান করা হয়।

এলাকাবাসীর পক্ষে রুবেল ইসলাম নয়ন, ওয়াসিম আকরাম, মাসুম রেজা, মিসবাহ উদ্দিনসহ ১২ জন কৃষক এই লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তারা জানায়, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ওজনে কম দেয়া এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে কৌশলে টাকা আদায় করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ, গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণকালে তিন শত করে টাকা না দিলে তাদেরকে ১৫ কেজি চাল ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের তিন হাজার টাকা প্রদান করা হবে না। চাল টাকা নিতে আসা দরিদ্র কৃষকরা তাৎক্ষণিক অসহায় হয়ে পড়েন। কোনো উপায় না দেখেই তারা আবার ছুটে যান বাড়িতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে দেনা করে তিনশত করে টাকা নিয়ে আসেন ইউনিয়ন পরিষদে। এরপর ওই টাকা রেখে তাদেরকে একটি হোল্ডিং ট্যাক্স ধরিয়ে দিয়ে সরকারের দেয়া ১৫ কেজি চাল মাপের চেয়েও অনেক কম দিয়ে তাদেরকে বিদায় করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এই কাজ করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক কৃষক ধার দেনা করে ওই টাকা পরিশোধ করেছেন। একই সাথে ১৫ কেজির পরিবর্তে প্রায় ১৩ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

কৃষকরা আরো জানায়, তাদের বরাদ্দ চাল কম দেয়ার পর বাড়তি চাল রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মরত কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা সমালোচনা চলছে।

এ ব্যাপারে বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) প্রদীপ কুমার রায় এর ফোন সংযোগ না পাওয়ায় কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার বলেন, ‘আমরা কৃষকদের তিন হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল মেপে দিয়েছি। আর হোল্ডিং ট্যাক্স এর টাকাতো ইউনিয়নের নাগরিকদের কাছে থেকে রশিদে আদায় করা হয়েছে। চাল ওজনে কেউ কম পেয়েছে মর্মে সাথে সাথে আমাকে জানায়নি, কম পেলে বা জানালে বিষয়টি আমিও দেখতাম।’

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদককে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। তদন্ত রির্পোটে পেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’