নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাঁচজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদত্যাগ করেছেন। সরকারের সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরা হলেন— অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান আজাদ, আবু সুফিয়ান, মুজাহিদ ইসলাম শাহ, মোরছালিন ইসলাম ও জুলফিকার আলী ভুট্টু।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়া পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে জনগণের সেবা করা এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য গর্বের বিষয় ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে তারা আর এ দায়িত্বে বহাল থাকতে চান না।
পদত্যাগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা তাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। একইসাথে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি না হওয়া এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পদত্যাগকারী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও নীলফামারী শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আনিছুর রহমান আযাদ নয়া দিগন্তেকে জানান, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত বিবেকের তাড়নায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।



