প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থী ছুরিকাহত

সিবিএমসিবিতে ছাত্রদল সভাপতির সিট বাতিল

সভায় কলেজ প্রশাসন মাহির ইবনের নামে বরাদ্দ করা ছাত্রাবাসের সিট তদন্ত চলাকালে সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাকে হোস্টেল প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
সিবিএমসিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থী ছুরিকাহতের ঘটনায় কলেজ ছাত্রদল সভাপতির সিট বাতিল করা হয়েছে
সিবিএমসিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থী ছুরিকাহতের ঘটনায় কলেজ ছাত্রদল সভাপতির সিট বাতিল করা হয়েছে

ময়মনসিংহে কমিউনিটি বেইজড মেডিক্যাল কলেজে (সিবিএমসিবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংঘর্ষ ও এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনকে জড়িয়ে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রাবাসে তার সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে কলেজ প্রশাসন।

একই সাথে তদন্ত চলাকালে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হোস্টেলে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সিবিএমসিবির ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রী ও নারীদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের সাথে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ নামে এক শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে আহত হন।

ঘটনার পর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো: মোর্শেদ আলমের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলেজ প্রশাসন মাহির ইবনের নামে বরাদ্দ করা ছাত্রাবাসের সিট তদন্ত চলাকালে সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাকে হোস্টেল প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ বলেন, সংঘর্ষের সময় পেছন থেকে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, তা তিনি দেখতে পাননি। তার দাবি, ঘটনার সময় ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কয়েকজন সদস্যের চক্রান্তে তাকে ঘটনার সাথে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কলেজ প্রশাসন জানায়, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী ছিল এবং কারা সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত ছিল, তদন্তে তা স্পষ্ট হবে।