ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নারী রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৭ নম্বর বেডে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড টিএনটি এলাকার আকতার উজ্জামানের স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের (৩৮) পেটে বুধবার দুপুরে হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়। একই দিন বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে ভর্তি ও ব্যবস্থাপত্রে অন্য ওষুধের সাথে হার্টম্যান্স সলিউশন স্যালাইন লিখে দিয়ে হাসপাতালের ইনডোরে পাঠান।
তখন ইনডোরে কর্তব্যরত নার্স আমেনা বেগম অন্য ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে মজুদ থাকা সরকারিভাবে সরবরাহকৃত স্যালাইন থেকে হার্টম্যান্স সলিউশন নামের স্যালইনটি পুশ করেন। স্যালাইন পুশের কিছুক্ষণ পর রোগী বমি শুরু করলে পাশে থাকা শাহনাজের ছেলে আদিয়াত জামান অপূর্ব স্যালাইন ব্যাগের গায়ে লাগানো স্টিকারের লেখা পড়ে জানতে পারে তার মায়ের শরীরে যে স্যালাইনটি পুশ করানো হচ্ছে তার মেয়াদ ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সকে জানালে তাৎক্ষণিক স্যালইনটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে রোগী শাহনাজের এক স্বজন জানান, পেটের ব্যাথায় আক্রান্ত শাহনাজকে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ভর্তি দিয়ে কিছু ওষুধপত্র এবং স্যালাইন লিখে দেন। পরে, তাকে ইনডোরে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত নার্স অন্য ওষুধ দিয়ে হাসপাতালের একটি স্যালাইন পুশ করেন। বেশ কিছুক্ষণ পর শাহনাজের ছেলের চোখে ধরা পড়ে স্যালাইনটি ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ। রোগীর শরীরে প্রথম স্যালাইনটি পুশ করার কিছুক্ষণ পর তিনি বমি করে দেন।
রোগীর ছেলে অপূর্ব বলেন, ‘মা বমি করার পর স্যালাইনের গায়ে স্টিকারের লেখা পড়ে সে স্যালাইনের মেয়দোর্ত্তীনের বিষয়টি জানতে পারি।’
ওই সময় পাশের বেডের রোগীর অভিভাবক জুয়েল ও ফরিদসহ অন্যরা জানান, রোগীর ছেলের চোখে ধরা পড়ায় নার্স তড়িগড়ি করে স্যালাইনটি খুলে নিয়ে আরেকটি স্যালাইন পুশ করেছে।
অভিযুক্ত নার্স আমেনা জানান, পুশ করা সরকারি স্যালাইনটি আমাদের এখানে মজুদ ছিল। তাড়াতাড়ি করে পুশ করায় মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি মিসটেক হয়েছে। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই স্যালানটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়।
নার্স সুপাভাইজার শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাছে রক্ষিত সকল স্যালাইনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ২০২৪ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনটি এখানে কেমন করে আসলো তা আমি বলতে পারবো না।’
তাছাড়া, দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
স্টোরকিপার মেহেদী হাসান জানান, সরকারি বরাদ্দের স্যালাইন তিন মাস আগেই নার্স সুপারভাইজারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিষয়ে তার জানা নেই।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মাসুদ পারভেজ জানান, এ বিষয়ে ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে রোগীর দেহে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করার সত্যতা পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি গাফিলতি এবং গুরুতর অপরাধ। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নার্সসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



