মাদারীপুরে কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও বাহাদুরপুরের পীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে মাদারীপুর জেলার শিবচরের ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরপুরের মাদানি মিলনায়তনে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
এ সভায় মাদারীপুর জেলার ১৭০টি কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাজী শরিয়তউল্লাহ রহ:-এর ৭ম অধস্তন পুরুষ ও গদিনশীন পীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেন, কওমি মাদরাসায় কোনো ছাত্রকে আর বেত্রাঘাত করা যাবে না। এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অমনোযোগী হলে তাকে বুঝিয়ে শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে; সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাকে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষা প্রদানের নামে কোনো প্রকার শারীরিক শাস্তি মেনে নেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, কোনো মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতন বা বলৎকারের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন কোনো ঘটনা নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুধু চাকরিচ্যুতই নয়; কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, আলেম সমাজেরই একটি অংশ মাদরাসায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটালে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা বাড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেন, আবার কখনো তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের সাহায্য নিয়ে মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাদরাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো, রাতের নিরাপত্তায় নাইট গার্ড নিয়োগ এবং শিক্ষকদের সপরিবারে মাদরাসার পাশে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন।



