ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষা, এস আলম ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বয়কট এবং গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেটে সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে সিলেট নগরীর ইসলামী ব্যাংক তালতলা, জিন্দাবাজার, লালদিঘীরপাড়, আম্বরখানা, দক্ষিণ সুরমা, শাহপরান ও শিবগঞ্জ শাখাসহ বিভিন্ন উপশাখার সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
নগরীর জিন্দাবাজার ব্রাঞ্চের সামনে ব্যাংকের গ্রাহক বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ারের সভাপতিত্বে ও হাফিজ মাওলানা জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান।
দক্ষিণ সুরমা ব্রাঞ্চের সামনে ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান কবির রিপনের সভাপতিত্বে ও জাফর হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ব্যাংকের বিপুল গ্রাহক অংশ নেন|
তালতলায় ইসলামী ব্যাংক অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী আব্দুল খালিক।
লালদিঘীরপাড় ব্রাঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী ইয়াসীন খান।
আম্বরখানা ব্রাঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন ও মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব।
শিবগঞ্জ ব্রাঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন ও শাহেদ আলী।
শাহপরান ব্রাঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের রক্ত ও ঘামে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক। দেশ-বিদেশের কোটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক এ ব্যাংককে ধ্বংস করতে দেয়া হবে না। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যাংকটি থেকে প্রতিষ্ঠাতা ও মূল উদ্যোক্তাদের সরিয়ে কতিপয় লুটেরাদের বসিয়েছিল। যারা ব্যাংকের লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে।
তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকটি রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে আবারো ব্যাংকটিকে লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তারা পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের অন্যতম মূলহোতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বরখাস্ত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে দিয়ে রাতের আধারে ব্যাংক দখলের ষড়যন্ত্র করছে।
তারা আরো বলেন, একদিকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহক তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। অন্যদিকে, সরকার লুটেরাদের পুনর্বাসন করছে। তারা ইসলামী ব্যাংককে লুটপাটের মাধ্যমে আবারো দেশের ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়।
বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলার ফল ভালো হবে না। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে সচেতন গ্রাহকরা ঘরে বসে থাকবে না। ইতোমধ্যে আস্থাহীনতার কারণে সাধারণ গ্রাহক নিজেদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। যা ব্যাংকটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে। অবিলম্বে ফ্যাসিবাদের দোসর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও ওমর ফারুক খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পুনর্বহাল করতে হবে।



