ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ডিলারের বিরুদ্ধে গাফিলাতি, সার বিক্রির রসিদ না দেয়া, রেজিস্টার ঘঁষা-মাজাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত বা চিহ্নিত করা হয়নি। একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইউনিয়নটিতে সার বিতরণ বন্ধ থাকায় কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা বেড়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ইউএনওর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ইউএনও রাতেই তদন্ত প্রতিবেদন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে প্রেরণ করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনানা আগের দিন গত শনিবার শিলখুড়ি ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক তার ফেসবুকে সার সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন ‘শিলখুড়ি ইউনিয়নে যারা সারের ডিলার নিয়েছেন তাদেরকে বলছি আগামী কাল নিরপেক্ষ তদন্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। গুপ্ত, সুপ্ত হয়ে (বিএনপির) তথা তারেক জিয়া সরকারকে নিয়ে তামাশা... আমরা শিলখুড়ির নেতা, কর্মী ও জনগণ মেনে নেবে না। দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি... দেখা হবে খোলা মাঠে। আমার জানামতে দেশে সারের কোনো সঙ্কট নেই। আগামীকাল শিলখুড়ি ইউনিয়ন শাখার কৃষকদলের সকল নেতা-কর্মীকে সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হইল।’
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ভাই ইউনিয়নটির বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার। সেখানে আরো কিছু খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন। বিসিআইসি ডিলার তাদেরকে ইউরিয়া সার না দেয়ায় তারাও ডিলারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
অপরদিকে গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ইউএনওর সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, সার বিতরণকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে এমন তথ্য তার কাছে ছিল। সেকারণে তিনি একটি টিম প্রস্তুত রেখেছিলেন। তবে তথ্যটি তিনি ঘটনা ঘটার আগে কেন উপজেলা প্রশাসন কিংবা কৃষি দফতরকে অবগত করেননি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, ‘গত রোববার সার বিতরণের কথা ছিল। এর আগের দিন শনিবার রাতে শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। রোববার গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সাথে ওই পোস্টের যোগসূত্র রয়েছে। এসব ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদনে না আসায় দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জনমনে সংশয়, সন্দেহ ও বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’
উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সুরুজ্জামান বলেন, ‘শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিবকে তার ফেসবুক পোস্টের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছেন।’
তদন্ত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক তারেক বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি জানা ছিল না। কৃষকদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেয়া হয়েছে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার ডিলার বাদি হয়ে আব্দুল লতিফ নামের একব্যক্তিকে আসামি করে জিডি করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে।’



