চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা

শনিবার (১৫ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা শহরের বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের হলরুমে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

Location :

Chuadanga
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জেলা আমির মো: রুহুল আমিন এমপি
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জেলা আমির মো: রুহুল আমিন এমপি |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (১৫ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা শহরের বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের হলরুমে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আমির মো: রুহুল আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: রুহুল আমিন এমপি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র সমাজের মাঝে শহীদ আব্দুল মালেক ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সেই সময়, আইয়ুব খানের পদত্যাগের পর জেনারেল নূর খানের নেতৃত্বে গঠিত শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তৎকালীন ছাত্র সমাজের একাংশ ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি জানান। অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার ছাত্র সংগঠনগুলো ইসলামী আদর্শের বিরোধিতা করে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিতর্কে পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৯৬৯ সালের ২ আগস্ট এক বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা শহীদ আব্দুল মালেকের যৌক্তিক বক্তব্য সবাইকে আলোড়িত করে।’

জেলা আমির বলেন, ‘পরে একই বছরের ১২ আগস্ট টিএসসিতে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় আব্দুল মালেককে অংশ নিতে না দেয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন। সেই দিন তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আব্দুল মালেকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে।’

তিনি বলেন, ‘মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সেই থেকে দিনটিকে ইসলামী শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।’

বিগত সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমরা প্রকাশ্যে এ দিবসটি পালন করতে পারিনি।’

অনুষ্ঠানে জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, বাংলাদেশ মুফাসসির পরিষদের জেলা সভাপতি মাওলানা আবু জার গিফারী, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল খালেক, মাওলানা হাফিজুর রহমান, ডা: হুমায়ুন কবীর, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা জহুরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।