বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তদবিরের অভিযোগ

শিবচরে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের পর ছাড়া

মোজাম্মেলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে তাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। সে যদি মামলার আসামি হয়ে থাকে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২২ নম্বর সদস্য মোজাম্মেল শিকদারকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়
কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২২ নম্বর সদস্য মোজাম্মেল শিকদারকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয় |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পুলিশ আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২২ নম্বর সদস্য মোজাম্মেল শিকদারের আটকের পর গভীর রাতে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার পেছনে শিবচর উপজেলা বিএনপির এক নেতার তদবির ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর দিবাগত গভীর রাতে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়।

মোজাম্মেল শিকদার উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম শিকদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ মে শিবচর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি ৭৫ নম্বর আসামি। এছাড়া ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বলে জানা গেছে।

মোজাম্মেলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে তাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। সে যদি মামলার আসামি হয়ে থাকে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

এদিকে জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল, পরে ছেড়ে দিয়েছে। কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং কেন ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না। শুনেছি বিএনপির এক নেতা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেছেন।’

মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও মোজাম্মেলকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্নের তৈরি হয়েছে।