মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় নারী গ্রেফতার

দুপুরে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
গ্রেফতার কুলসুম বেগম
গ্রেফতার কুলসুম বেগম |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় কুলসুম বেগম (৪২) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর মেয়ে-জামাই কুদ্দুস রহমানকে (৩৫) খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার কুলসুম বেগম উপজেলার কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে। পলাতক কুদ্দুস রহমান উপজেলার বাঁশকান্দি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তারা সম্পর্কে জামাই-শাশুড়ি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মরহুম বজলু হাওলাদারের ছেলে সালাউল্লাহকে (২২) সরাসরি ইতালি নেয়ার চুক্তি হয় শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে কুদ্দুসের সাথে। চুক্তি মোতাবেক ২০ লাখ টাকা দিলে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সানাউল্লাহকে সৌদিআরব হয়ে লিবিয়া নিয়ে আটকে নির্যাতন চালায় দালালচক্র।

পরে নির্যাতনের ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে সানাউল্লাহ’র পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপনের আরো ২০ লাখ টাকা। ধারদেনা করে মাফিয়াদের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকা তুলে দিলেও গত ৬ মাস ধরে কোনো হদিস মিলছে না ওই যুবকের।

পবিবার আশঙ্কা করছে সানাউল্লাহকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে দালালচক্র। এই ঘটনায় গত পহেলা জুন সানাউল্লাহ’র দুলাভাই, দুধখালী গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে রনি খান (৩৭) মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে চক্রের মুলহোতা কুদ্দুসসহ ১১ জনের নামে মামলা করেন।

পরে আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে কুদ্দুসের শাশুড়িকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। আদালতে তোলা হলে বিচারক কুলসুমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘মানবপাচার মামলায় শাশুড়িকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জামাইসহ বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’