বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫-এর সময় অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। বরখাস্তরা হলেন- ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ জাকের হোসেন ও ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুল মতিন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে সরাসরি সহায়তা করেছেন, যা জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’-এর ধারা ৩৪(৪)-এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(৫) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হলেও দীর্ঘ সময় ফাইলটি মন্ত্রণালয়ের সচিব দফতরে আটকে ছিল। সংবাদে অভিযোগ করা হয়েছিল, অভিযুক্তরা ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে এই জালিয়াতি সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ভুয়া ঠিকানা এবং মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়েও তারা রোহিঙ্গা ভোটার তৈরির কাজ করেছিলেন।



