ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পার একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ওই বার্তায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ তোলা হলেও কারা হুমকি দিয়েছেন, কী ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে কিংবা অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অডিও বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।
তাদের দাবি, একজন বিসিএস ক্যাডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু অডিও বার্তায় অভিযোগের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় এবং অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট করা হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের অভিযোগ, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও কথিত অনিয়ম নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পরই এই অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, প্রশাসনের কিছু কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জবাবদিহি চাওয়া হলে সেটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করে আইনগত ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও আফিয়া আমিন পাপ্পার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, ‘ছাত্রদল ও যুবদলের নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। বিষয়টি দলের নজরে আসার পর তিনি ইউএনওকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।’
উল্লেখ্য, কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হুমকি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যায় না। একইভাবে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন দায়িত্বশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকাশের আগে শিরোনাম ও প্রতিবেদনের প্রতিটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করে নেয়া সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।



