নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবার জন্য দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ শিশু তামিমের (৬) সন্ধান ২৪ ঘণ্টা পরেও মেলেনি।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ভোলা থেকে আসা কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও শিশুটির কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ তামিম পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান শাহাদাত হোসেন। বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় ছোট্ট তামিম। খাবার শেষে শাহাদাত নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাত ভাইয়ের সাথে নদীর তীরে খেলাধুলায় মেতে উঠে। এ সময় অসাবধানতাবশত তামিম নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাটি দেখে চাচাত ভাই সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশু তামিমের কোনো সন্ধান পায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হাতিয়ায় ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান বলেন, একটি শিশু নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। ডুবুরি দল না থাকায় সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর শঙ্কায় পাগলপ্রায় তামিমের বাবা-মা। তামিমকে উদ্ধারের আশায় এখনো অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের কোনো ডুবুরি দল নেই। এ কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার সকালে ভোলা থেকে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।



