জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যা

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বও শুরু হয়।

Location :

Narayanganj

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, তার ছেলে ও ভাতিজাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বও শুরু হয়।

প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় গুলিতে নিহত আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই মো. আবুল বাশার অনিক। তিনি তার সাক্ষ্যে দাবি করেন, সেদিন শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এ সময় শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলিতে তার ভাই স্বজন নিহত হন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, সাংবাদিক রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শুভ্র।

এর আগে গত ১৩ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ১২ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাকশ্রমিক রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান স্বজনকে হত্যার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে এর আগে আদালত পরোয়ানাও জারি করেন।