মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামের ২০ হাজার মানুষের খানাখন্দে সড়কে যাতায়াত। ভোগান্তি আর ভোগান্তি হাজারো মানুষের। সামান্য বৃষ্টিতেই গাছুয়া ইউনিয়নের হোসনাবাদ ও পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের পাঁচটি সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় তিন গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হোসনাবাদ, বলরামপুর ও পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের সড়কগুলো মাইলের পর মাইল রাস্তা জুড়ে হাঁটু সমান কাঁদা আর বড় বড় গর্তের কারণে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিঘ্ন হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শতাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকার বৃদ্ধ-অসুস্থ মানুষেরা। দীর্ঘদিন ধরে পাকা আর সংস্কার না করায় রাস্তাগুলো এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রাণকেন্দ্র হোসনাবাদ নতুন রাস্তাটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ, যা সরকারি পুকুরপাড় থেকে মাস্তান বাজারের সাথে মিলিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত উপজেলা সদরের যোগাযোগ করেন। কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা রহমত উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গাছুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরপাড় থেকে এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। এই স্কুলে প্রতিদিন দুইশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করে। পাশাপাশী বিডিসি এইচ মাধমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। কাদার কারণে ছোট ছোট শিশুরা প্রায়ই পিছলে পড়ে বই-খাতা নষ্ট করছে ও মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এলাকায় প্রায় পাঁচশতাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক আছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। কেউ গুরুত্বর অসুস্থ্য হলে খাটে করে নিতে হয়। তাও পা ফসকে পড়ে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, হোসনাবাদ থেকে পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ সড়কটির অবস্থা আরও শোচনীয়। এই সড়ক দিয়ে বলরামপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী, যারা সৈয়দেরগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইউনিয়নের ইসলামাবাদ নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসায় পড়াশোনা করে, তারা নিয়মিত যাতায়াত করে। বর্তমানে সড়কটি পুরোপুরি যানবাহন চলাচলহীন হয়ে পড়েছে।
হোসনাবাদ গ্রামের আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘এলাকার সরকারি পুকুরপাড় থেকে মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অনেক খারাপ। এই সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পৈক্ষা হোসনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৈক্ষা নোমরহাট এবং পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রি কলেজে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই রাস্তাটি বন্ধ প্রায় হওয়ায় পুরো এলাকার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।’
শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার পরীক্ষা বা ক্লাস চললেও তাদের জুতা-জামা হাতে নিয়ে কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যায়। অনেক সময় জামা-কাপড় নষ্ট হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
এ ব্যাপারে গাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: সোহেল রানা বলেন, ‘গাছুয়া ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয়রা আবেদন করেছেন। প্রকল্প তৈরি করে সংস্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘চলাচল অনুপযোগী সড়কের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইউনিয়ন প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



