সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার থেকে আসা ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিহতদের মরদেহের কফিন ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছার আগেই সেখানে উপস্থিত হন সিলেট জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এসময় লাশ রিসিভের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানান তারা।
মঙ্গলবার সকালে কাতার থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ছয়টি লাশের কফিন আসে। এরমধ্যে সকলেই দুর্ঘটনায় মারা যান। তন্মধ্যে পাঁচজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এবং একজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
এদিকে, গত ১৭ জুন সকালে কাতারে ডিউটি করার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিঘর গ্রামের মরহুম আব্দুল আলীর ছেলে লিফন মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে লিফনের লাশও রিসিভ করা হয়।
কাতার ফেরত ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জেলা নায়েবে আমির হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, সাবেক ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ নিহতের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তারা বলেন, নিহত প্রবাসীরা গরীব পরিবারের মানুষ। তারা স্বজনের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে গিয়েছেন। অনেকেই ঋণ ও দ্বার-কর্জ করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। একটি দুর্ঘটনা তাদের জীবন ও স্বজনের মুখে হাসি কেড়ে নিয়েছে। সিলেট এয়ারপোর্টে নিহতের স্বজনদের কান্না দেখে চোখের পানি আটকানো যায়নি। নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পাশে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে নিহত ছয় প্রবাসীর পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
কানাইঘাটের নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।



