ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুরে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখার দায়ে শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো: খলিল আহমেদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এ আদেশ দেন।
বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শকালে কর্মকর্তাসহ ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্য কর্মীদের অনুপস্থিতিতে অফিস তালাবদ্ধ ছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নৈশ প্রহরীকে ডেকে এনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের তালা খোলা হয়। এসয়ম নির্ধারিত সময়ে অনুপস্থিত থাকায় ওই অফিসের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পার্শ্ববর্তী স্থানীয় বাসিন্দা ও মুদি দোকানের কর্মচারীর সাথে কথা বলেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার আগে অফিসে আসেন না।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: তৌহিদুল ইসলাম জানান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো: খলিল আহমেদ রাজাপুরের শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় উপ-সহকারী কর্মকর্তাসহ কাউকে অফিসে পাওয়া যায়নি এবং অফিসটি তালাবদ্ধ ছিল।
তিনি বলেন, যথাসময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সরকারি দায়িত্ব পালনে মারাত্মক অবহেলা প্রমাণ করে। এ কারণে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশসহ পত্র পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো: খলিল আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘কাউকে না জানিয়ে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম দেখতে সকাল ৯টার দিকে সেখানে পরিদর্শনে যাই। অফিস প্রধান হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ধরনের অনুপস্থিতি দায়িত্ব পালনে মারাত্মক অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি জানান, নির্ধারিত কর্মসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং সরকারি কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। তাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন খানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, একই অফিসে কর্মরত অফিস সহায়ক মো: মাহবুবুর রহমান ও মনোতোষ হালদারকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো: খলিল আহমেদ জানান, সরকারি অফিসগুলোতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। এ ধরনের নজরদারি বাড়লে সরকারি অফিসে যথাসময়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।



