সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি

ইবিতে আবাসিক হলগুলোর সিট বরাদ্দে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিচ্ছে প্রশাসন

ইবি শিবির সভাপতি বলেন, ‘একজন বৈধ শিক্ষার্থী যেখানে আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Location :

Kushtia
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইবি শিবির সভাপতি ইউসুফ আলী
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইবি শিবির সভাপতি ইউসুফ আলী |নয়া দিগন্ত

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোর সিট বরাদ্দে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে হল প্রশাসন বেআইনি সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ইবি শিবিরের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বেআইনি সুবিধা দিয়ে ওঠানোর অভিযোগ তুলে ইউসুফ আলী বলেন, ‘শাহ আজিজুর রহমান হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর একবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো সিট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ অন্য হলগুলোতে দুই-তিনবার বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। এরপরে যখন ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। তখন আজিজ হলের প্রভোস্ট অত্যন্ত সুকৌশলে দীর্ঘমেয়াদি একটা এ্যালট দিয়েছেন। আবেদনের সময়ও এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার মানে উনি চাচ্ছেন, বরাদ্দ ছাড়াই দলীয় কোটায় বা অন্যভাবে শিক্ষার্থীদের হলে তুলবেন। আর এভাবেই তোলা হচ্ছে।’

এর আগে দুপুর ২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূত আশ্রয় দেয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার। সেই অধিকার মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টনে বৈষম্য, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একজন রাজনৈতিক কর্মীর বৈধ সিট না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন হলে অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য হলের ক্ষেত্রেও অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে।’

ইবি শিবির সভাপতি বলেন, ‘একজন বৈধ শিক্ষার্থী যেখানে আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণসহ আট দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো, আবাসিক হলগুলো থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ বন্ধ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিট বণ্টন, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ, রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এমাদুর রহমান, স্কুল ও কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক জায়েদ হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ এবং আইন সম্পাদক ফরহাদ রেজা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের পাঁচটি হলের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।