নানিয়ারচর (রাঙামাটি) সংবাদদাতা
ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মত্যাগের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম ও বীরত্বের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে রাঙামাটির মহালছড়ির বুড়িঘাট এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে রুখে দিতে তিনি যে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তার আত্মত্যাগের মহান গৌরবগাঁথা ইতিহাস জানতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের কবর জিয়ারত করেছেন নানিয়ারচর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৫ই আগস্ট) সকালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে এই কবর জিয়ারত করেন তারা।
এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। শিক্ষার্থীরা জানায়, পাঠ্যবইয়ে তারা ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিগাথা ইতিহাস ও ১৯৭১ সালে তার আত্মত্যাগের মহান গৌরবগাঁথা ইতিহাস জানতে পেরেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ। তবে তার নামে নানিয়ারচরে সরকারিভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়নি। ২০১৯ সালে আমরা নানিয়ারচরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করি।’
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব এলাহি বলেন, ‘৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আজ আমরা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের কবর জিয়ারত করতে এসেছি। শিক্ষার্থীরা যাতে করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার আদর্শ ধারণ করতে পারে। ’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিগাথা ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে তার কবর জিয়ারত করে রূহের মাগফিরাত কামনা করতে হবে। এখানে এসে জানতে হবে প্রকৃত ইতিহাস। তবেই এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ধারণ করতে পারবে। ’
এসময় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: শামিম, জেকি চাকমা ও রিটন চাকমাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


