রাণীশংকৈল থানার ওসির বিরুদ্ধে ডিআইজির কাছে কৃষকের অভিযোগ

অভিযোগকারী কৃষক গুমানি উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের দিহট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৮ জুন ডাকযোগে ডিআইজি, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার এবং রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবে অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।

Location :

Ranisankail

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ বাড়ীর বিরুদ্ধে রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এক কৃষক। অভিযোগে ওসির পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রমজান আলী এবং আলু ব্যবসায়ী মাসুদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কৃষক গুমানি উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের দিহট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৮ জুন ডাকযোগে ডিআইজি, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার এবং রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবে অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও ১১ দিন কারাভোগের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গুমানি স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী মাসুদের কাছে ১০৬ বস্তা আলু ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে পাওনা টাকা চাইলে মাসুদ তাকে ধর্মগড় বাজারে যেতে বলেন। সেখানে ইউপি সদস্য রমজান আলী বিষয়টির দায়িত্ব নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন।

তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা না পাওয়ায় গুমানি রাণীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওসি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই সফিকুল ইসলামকে। অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তের পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় একপর্যায়ে ওসি তাকে জানান, টাকা আদায় করা সম্ভব নয় এবং বিষয়টি নিজ উদ্যোগে মীমাংসার চেষ্টা করতে বলেন।

পরে হরিপুর উপজেলার বনগাঁও বাজারের একটি হোটেলে ইউপি সদস্য রমজান আলীর সাথে দেখা হলে পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চান গুমানি। এ সময় রমজান আলী টালবাহানা করলে তিনি রমজান আলীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবি নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গুমানির দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রমজান আলী তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন। প্রকৃত ঘটনা জানার পরও ওসি তার অজান্তে মামলাটি রুজু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, মোটরসাইকেলটি পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের কাছে জমা রাখা হয়। পরদিন তিনি থানায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলামের সাথে দেখা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই ওসিকে বিষয়টি জানালে তার নির্দেশে গুমানিকে থানার হাজতে আটক করা হয়। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১১ দিন কারাভোগের পর তিনি ঠাকুরগাঁও আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গুমানি বলেন, “আমার আলুর পাওনা টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে মাসুদ ও ইউপি সদস্য রমজান আলী। তাদের সহযোগিতা করে ওসি ও এসআই আমাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়েছেন। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম বলেন, “ওসি যা নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।”

অভিযোগের বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ বাড়ী বলেন, “গুমানি যার কাছে টাকা পাবে তাকে না ধরে ইউপি সদস্য রমজান আলীর মোটরসাইকেল আটকে রাখেন। এ ঘটনায় রমজান আলী থানায় এজাহার দিয়েছেন। তাই আইন অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়িনি।