সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।



