পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হলেন এমপি সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবানে আনন্দের বন্যা

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিন পার্বত্য জেলা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পানীয় জলের সঙ্কট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেইসাথে দুর্গম এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

মিনারুল হক, বান্দরবান

Location :

Bandarban
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী |নয়া দিগন্ত

বান্দরবানের ৩০০ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করায় বান্দরবানে বইছে আনন্দের বন্যা। আনন্দে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরাও, চারিদিকে চলছে মিষ্টি বিতরণ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আরো তিন মন্ত্রীর সাথে শপথ গ্রহণ করেন সাচিং প্রু জেরী। শপথ বাক্য পাঠ করান নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মন্ত্রীর শপথ বাক্য পাঠ করার পরপরই বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মুহূর্তে মিষ্টির দোকানগুলো খালি হয়ে যায়। জেলা বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে চলে মিষ্টি বিতরণ।

নবনির্বাচিত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৩০০ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এর আগে ১৯৮৯ সালে বান্দরবান স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৬ সালে বান্দরবান সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ১৫ তম বোমাং রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরীর ছেলে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত এমপি দীপেন দেওয়ানকে। পরে তিনি নানা বিতর্কে জড়িয়ে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

দীর্ঘ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর পদটি খালি থাকার পর অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাচিং প্রু জেরী এমপিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়।

শপথ নেয়ার পর সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিন পার্বত্য জেলা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পানীয় জলের সঙ্কট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেইসাথে দুর্গম এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থারও বেহাল দশা। স্থানীয় মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থা, জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করার কথা জানান নবনির্বাচিত মন্ত্রী।

পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলে সমস্যা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সমাধান করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে আগামী সপ্তাহে নবনির্বাচিত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর ঢাকা থেকে বান্দরবান আসার কথা রয়েছে। বিপুল সংবর্ধনারও আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বিএনপির মধ্যে।