ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Location :

Cumilla
নিহত সোহাগী জাহান তনু
নিহত সোহাগী জাহান তনু |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দিয়েছেন।

কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, সাবেক দুই সেনাসদস্য তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ(৪৭) এবং সৈনিক শাহীন আলমের(৩৭) বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই পরিবারের অভিযোগ তনুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও তাকে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন সার্জেন্ট জাহিদ। তিনি এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ব্যক্তি সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনিও সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

কুমিল্লা আদালত সূত্র জানায়, সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন। একই আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তদন্তুসংশ্লিষ্ট কোনো কিছু থাকলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।

সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো: মজিবুর রহমান।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বশেষ মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম।