শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না এলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘তারা শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না এলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হব।’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
বিএনপির বিরুদ্ধেও শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদনের অভিযোগ তোলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখছে না। সংসদে ইতোমধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, তবু আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মনে হচ্ছে পাতিশিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি আমরা।’
লংমার্চে এক ধরনের দাবি তুলে পরে জাতীয় সংসদে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যে ‘দ্বিমুখিতা’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লোগো থেকে ‘আকিমুদ্দীন’ কথাটি সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দটিও আর নেই। এ কারণে দলটিকে ইসলামী দল বলা যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রেজাউল করীম বলেন, ‘গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা স্পষ্টভাবে বলেনি; বরং জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনেই দেশ পরিচালনা করবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে, জামায়াত আর ইসলামী দল নয়।’
জামায়াতের লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতে ইসলামী লংমার্চ করেছে। অথচ সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন, বিদ্যুৎ সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়। তাহলে এত তেল-গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করা হলো? এমন দ্বিমুখী আচরণ কেন?’
কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আখন্দ ও সেক্রেটারি জিএম তাওহীদ আনোয়ারসহ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



