ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দিয়েছে। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Madaripur
গ্রেফতার আসামি ফারুক মোল্লা
গ্রেফতার আসামি ফারুক মোল্লা |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।