রংপুর বিভাগীয় কমিশনার

মাদকাসক্ত সন্তান পরিবারে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে

“সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মাদকসেবীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। যে-ই হোক না কেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেছেন, একটি পরিবারে কেউ মাদকাসক্ত হলে সেই পরিবারের শান্তি-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি নেশার টাকার জন্য মাদকাসক্ত সন্তান নিজের অভিভাবককেও হত্যা করতে দ্বিধা করে না। তাই মাদকের ভয়াবহতা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম, বিজিবি-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন, রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মারুফ আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রাকিবুল ইসলাম এবং জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু জাফর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মাদকসেবীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। যে-ই হোক না কেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “একটি পরিবারে যদি কেউ মাদকাসক্ত থাকে, তাহলে সেই পরিবারের শান্তি শেষ হয়ে যায়। নেশার টাকার জন্য মাদকাসক্ত সন্তান নিজের বাবা-মাকেও হত্যা করতে পারে। তাই নিজেদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার মধ্য দিয়েই সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবারে ভালোবাসা ও পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় হলে সন্তানরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‌্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।