কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসীরা সদর আসনের এমপি মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলা করেছে। এ সময় তার সাথে থাকা সাতজনসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এমপি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সোয়া ৬টার দিকে তিনি শহরের ছয় রাস্তা মোড়ের বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি আমির হামজা জানান, আমি আজ সারাদিন সদর উপজলোর বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম এমন সময় জানতে পারলাম গণঅধিকার পরিষদের একটি সভা থানাপাড়ার ছয় রাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে আমি এবং আমার পরিবার-সংগঠনকে নিয়ে আপত্তিকর ও উত্তেজনাকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল। বিষয়টি আমি জানতে পেরে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বরকে জানালে তিনিসহ আমি সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ এসকর্টে বাসায় ফিরছিলাম। ছয় রাস্তা মোড়ে এমন সময় আমার গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক ও ইট দিয়ে আমার গাড়িতে থাকা সাতজনকে আহত করে। তার মধ্যে আমার চাচাও রয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ সময় পুলিশের নীরব ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়।
তিনি জানান, পুলিশ একটু কঠোর ও সতর্ক হলে সন্ত্রাসীরা এত সাহস পেত না। এ সময় আমি নিজেও আহত হই। পরে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির গলিতে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়ার আখতার হোসেন, তৌকির আহমেদ, জহুরুলসহ শতাধিক লোক এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে তিনি জানান। তিনি তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।
এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনার পর পর ছয় রাস্তা মোড় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় জামায়াত ও গণপরিষদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া এবং পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এশার পর শহরের মজমপুর এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। জেলা জামায়াতের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিলে বিপুলসংখ্যক জনগণ অংশ নিয়ে অবিলম্বে এমপি আমির হামজার ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সেইসাথে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
এ ঘটনার বিষয়ে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উসকানিমূলক আচরণ করে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, এমপি আমির হামজা নিজেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতিতেই গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালান। আজ রাতেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেছেন, ‘বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’


