ফেনী অফিস
ফেনীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রসূতি মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের খাজুরিয়া এলাকার আল-আকসা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের মিয়াজী বাড়ির বেলাল হোসেনের স্ত্রী প্রসূতি তাহসিনা ফারহাকে শনিবার রাত ৮টার দিকে আল-আকসা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ফেনী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা: শম্পা কুন্ডুর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রসূতির বাবা বেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে ডা: শম্পা কুন্ডুর অধীনে ভর্তি করাই। কিন্তু চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারির চেষ্টা চালায়। দুপুর ১২টার দিকে ভুল চিকিৎসার একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আমার মেয়ের অবস্থাও সংকটাপন্ন।’
রোগীর চাচা শিমুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালটিতে কোনো জরুরি সেবার মান নেই। এমনকি নবজাতককে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়ার মতো সক্ষমতাও তাদের ছিল না। আমরা প্রশাসনের কাছে এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা: শম্পা কুন্ডু জানান, ‘রোগীটি আমার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার রাতে আমি তাকে দেখে গিয়ে জানাই যে নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানানোর পরামর্শ দিই। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে না জানিয়ে সাথী নামের এক নার্সকে দিয়ে ছোট সিজার (এপিসিওটমি) করানোর চেষ্টা করে। এতে বাচ্চার মাথা আটকে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমাকে জানানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) গিয়ে দেখি নবজাতকের মাথা আটকে আছে, নার্স সাথী রোগীকে ছোট সিজারের চেষ্টা করে। এতে নবজাতক ও প্রসূতি মা দু’জনই মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ে। এমতাবস্থায় আমি একজন চিকিৎসক হিসাবে সিজার না করে চলে আসা কি উচিত ছিল? তা হলে মা ও নবজাতক দু’জনেরই ক্ষতি হতে পারতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর অভিভাবক উভয় পক্ষ এ ঘটনার জন্য দায়ী, অথচ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। আমি মনে করি, রোগীর স্বজনদের সিজারিয়ান অপারেশনে অনিচ্ছা ও জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারির চাপের কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনার বিষয়ে আল-আকসা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুকীর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



