সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘এমসি কলেজ শুধু সিলেটের নয়, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনেও এমসি কলেজকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে।’
শনিবার (২২ আগস্ট) মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ গণিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘১৮৯২ সালে রাজা গিরিশচন্দ্র সিংহ তার বাবা মুরারিচাঁদ সিংহের নামে এমসি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কলেজটি আজ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একসময় আর্থিক সঙ্কটের কারণে কলেজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আসামের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ এগিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ—তিনটি সময়কালেই এমসি কলেজ তার স্বকীয় ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখেছে। একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে এখানে উচ্চশিক্ষা দেয়া হতো। সে সময় এমসি কলেজের সাথে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানের তুলনা করা হতো। আসাম প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি কলেজের একটি ছিল এমসি কলেজ ও অন্যটি ছিল কটন কলেজ।’
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসি কলেজের গণিত বিভাগও দীর্ঘদিন সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই বিভাগের অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আজ সেই ঐতিহ্যবাহী বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘এমসি কলেজের সাথে বাংলাদেশের অনেক কৃতী মানুষের স্মৃতি ও অবদান জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের তিনজন স্বনামধন্য অর্থমন্ত্রীও এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও অবদান আমাদের গর্বিত করে।’
এমসি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগ পুনরায় চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘একসময় এমসি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শুধু বিজ্ঞান বিভাগ চালু রয়েছে। আমরা চেষ্টা করব, ভবিষ্যতে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগও পুনরায় চালু করা যায় কিনা। একই সাথে স্নাতক পর্যায়ে বাণিজ্য বিভাগ চালুর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে।’
তিনি গণিত বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘অ্যালামনাইদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা শুধু বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াবে না, বরং বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এমসি কলেজের ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।’
গণিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির সভাপতি প্রফেসর অরুণ চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহমদ, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আকমল হোসেন, প্রফেসর রাকেশ ঘোষ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ, গণিত বিভাগের প্রফেসর মো: গিয়াস উদ্দিন ও গণিত বিভাগের প্রধান প্রফেসর তপতী চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো: মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহিদুল হক সোহেল।



