মাওলানা এ টি এম মাসুম

সরকার জনগণের মতকে উপেক্ষা করে বিশ্বাসঘাতকতা করছে

‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

Location :

Noakhali
নোয়াখালীর মাইজদীতে মাওলানা এ টি এম মাসুম
নোয়াখালীর মাইজদীতে মাওলানা এ টি এম মাসুম |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেছেন, ‘সরকার জনগণের মতকে উপেক্ষা করে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’

মঙ্গলবার (২ জুন) নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৫ বছর শাসন করেও টিকতে পারেনি। তাদের মতো আচরণ করে জনগণের মতকে উপেক্ষা করলে আপনারা এক বছরও টিকে থাকতে পারবেন না। সুতরাং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।’

নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান।

অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন এবং দারসুল কোরআন পেশ করেন কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ। এতে জেলার বিপুল সংখ্যক অগ্রসর কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

মাওলানা এ টি এম মাসুম আরো বলেন, সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিন মাসে এ সরকার সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পরিচয় বেশি দিয়েছে। দেশে খুন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে নির্লজ্জ দলীয়করণ, দাতাদের মনোযোগ আকর্ষণে ও বিনিয়োগ আনয়নে ব্যর্থতা, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা সরকারের তিন মাসের সুস্পষ্ট দলিল। তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শরিয়া আইন ও কোরবানি নিয়ে মশকরা করছেন। দেশের মধ্যে আবার নব্য ফ্যাসিবাদের, নব্য মির্জাফরদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এদেশ শাহজালালের দেশ, শাহ পরানের দেশ; শাহ মাখদুম, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, শহীদ সাব্বির, আইয়ুব, আবু সাঈদ ও শহীদ মুগ্ধের এদেশ। সুতরাং এখানে কোনো স্বৈরাচারের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের নিকট মাথা নত করব না।

সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারো কাছে দাসখত বা ডিকটেশন দিয়ে দেশ চালাবেন না। আমাদের দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্যায় ঢুকে গেছে। এমন একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদেরকে সাহস ও হিম্মত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জনগণের নিকট ইসলামের দাওয়াত ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে এবং ঈমানের প্রধান অপরিহার্য দাবি হিসেবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সবাইকে সাথে নিয়ে আগামীর ভবিষ্যৎ ইনসাফ, ন্যায়নীতি ও কোরআনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।