নান্দাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ : ৫৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

১৪৪ ধারা বহাল, পুরুষশূন্য গ্রাম

খারুয়া বাজারে আব্দুর রব ভূঁইয়া ও শওকত আলী মাস্টার পক্ষের মধ্যে জমির রাস্তার সামনের অংশের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজারে জমির অবস্থান (পজিশন) নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৭০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫৭০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সংঘটিত ওই ঘটনার পরদিন শুক্রবার নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ উভয় পক্ষের লোকজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় খারুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মো: সাদত হোসেনকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাকে খারুয়া বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় এবং শনিবার (৬ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খারুয়া বাজারে আব্দুর রব ভূঁইয়া ও শওকত আলী মাস্টার পক্ষের মধ্যে জমির রাস্তার সামনের অংশের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে একটি ফার্নিচারের দোকান, একটি রড-সিমেন্টের দোকান ও একটি মুদি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত ও নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ১৮৬, ৩৫৩, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা (নং-৫) রুজু করেছে।

বর্তমানে এলাকায় ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গ্রেফতার আতঙ্কে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ফলে এলাকাটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে।’