কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৭০টি বসতভিটা। উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরো অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অব্যাহত নদী ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের মানুষদের মাঝে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নদী থেকে নিজের বসতভিটা বাঁচাতে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, আবার কেউ খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়েছে। আর তাতেই তীব্র হয়েছে নদীভাঙন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীর তীরবর্তী মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরো অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার অব্যাহত ভাঙনের কারণে নদী বসতঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কিভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।’
আরেক বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, ‘দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাফ্ফর আলী বলেন, ‘নদী আমাদের জমি খেয়েছে, এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়। সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ চাই যাতে বারবার উদ্বাস্তু হতে না হয়।’
স্থানীয় কাশেম উদ্দিনের আক্ষেপ, ‘এক জীবনে তিন-চারবার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাব? ঘর বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ হয়ে গেছে।’
শিলখুরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ বলেন, ‘উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। গত তিন দিনে নদীভাঙনে সেখানকার অন্তত ৭০টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। এখন আরো অর্ধশতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
সূত্র : ইউএনবি



