ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে এক যুবক নিহতের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় চরআলগী গ্রামের খলিলুল্লাহ কানন মামলা করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুর ঘাট এলাকায় ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে দুই গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটার আঘাতে গুরুতর আহত হন শিপন মিয়া (১৮)। ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমিক চিকিৎসা শেষ তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত শিপন মিয়া মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রোববার দুপুরে উচাখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নির্দেশে মরিচারচর গ্রামের ইব্রাহিম ও তার মামা আব্দুল খালেক সরকারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও তাণ্ডব চালায়। কনের বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার নষ্ট করা, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বাড়ির প্রায় ৫০টি ঘর ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত, শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেয়া এবং প্রায় ২৫টি গবাদিপশু ও ১০টি পানির পাম্প লুট করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। তবে মরিচারচর গ্রামের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করা হয়েছে।
তাদের মতে, ইভটিজিংয়ের জেরে প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং এতে তাদের গ্রামের শিপন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিপন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত শিপনকে ঘিরে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



