কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

৫ বছরের মধ্যে সড়কপথে যুক্ত হবে ভোলা : নৌপরিবহন মন্ত্রী

‘দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।’

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj
কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন |নয়া দিগন্ত

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে যুক্ত করার লক্ষ রয়েছে।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে নৌপথনির্ভর যোগাযোগ করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মানুষের যোগাযোগের সুবিধা বাড়াতে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে।

তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক চাপ ও আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি প্রতিদিন চলাচল করছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, মানুষের সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এই রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। একই সাথে ভাড়া যৌক্তিক করা, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকার চক্রাকার নৌপথ ও ওয়াটার বাস সার্ভিসকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ এবং নৌপথের সাথে সড়ক যোগাযোগের সমন্বয় করা গেলে এসব সেবা আরো জনপ্রিয় হবে। এতে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে নৌপরিবহন খাতের লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।

বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) মো: রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ) শেখ মো: নাসিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।