কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার সঙ্কটের আশঙ্কায় ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ায় ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রোববার দুপুরে শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ৩০ বস্তা সার ফেরত দিয়ে যায়। তবে, এখনো ১৬৭ বস্তা সার কৃষকদের কাছে রয়েছে।
অপরদিকে সার নিতে এসে খালি হাতে ফেরত যাওয়া কয়েকজন কৃষক বলেন, কয়েকদিন ধরে সারের জন্য ঘুরতেছি, সার পাওয়া যাচ্ছে না। সারের ডিলার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ সারের অর্ধেক খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এতে কৃষকরা তাদের চাহিদা মতো সার পায় না। যে সারের বস্তার দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা, ব্যবসায়ীরা সেই সারের বস্তা এক হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করে। জমিতে সার দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে আমাকে অবরুদ্ধ করে। পরে সার নিতে আসা ব্যক্তিরা ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যায়। তবে ৩০ বস্তা সার ফেরত দিলেও এখনো ১৪৩ বস্তা ডিএপি ও ২৪ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করা যায়নি। সার লুটপাটের ঘটনায় মামলা করা হবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। সার নিতে আসা ব্যক্তিদের মনে আশঙ্কা ছিল পর্যাপ্ত সার নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পাবে না এমন সন্দেহ এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সার নিতে আসা ব্যক্তিরা লুটপাট চালিয়ে সারের বস্তা নিয়ে যায়। সার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা যদি সারগুলো ফেরত দেয় তাহলে যাদের সারের অভাব রয়েছে তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আর যদি ফেরত না দেয় তবে ভিডিও ফুটেজে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



