১৮ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১১ মহররম ১৪৪৬
`

পাতাল রেলের আকর্ষণের অন্ত নেই লন্ডনের

পাতাল রেলের আকর্ষণের অন্ত নেই লন্ডনের - ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা থেকে শুরু করে আজ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক শহরে মাটির নিচে মেট্রোরেল চালু হয়ে গেছে। তবে পাতাল রেলের জন্মস্থান লন্ডনের নেটওয়ার্ক একাধিক কারণে আজও তার আকর্ষণ হারায়নি।

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড একাধিক কারণে নজর কাড়ার মতো। ৪০২ কিলোমিটার জুড়ে মোট ১১টি রুটে ২৭২টি স্টেশন রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ লাখ মানুষ ‘টিউব’ ব্যবহার করেন।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন পাতাল রেলের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে ভালোবাসেন কর্মী অ্যান গ্যাভাগ্যান। তার মতে, ‘অনেক কারণেই টিউব যাকে বলে আইকনিক। প্রতিবার টিউবে চড়ার সময়ে কোনো কিছু আমার মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে।’

অ্যান আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরের মানুষ। প্রথমবার লন্ডনে এসে তিনি টিউবের অনুরাগী হয়ে পড়েন। ২০১২ সাল থেকে তিনি লন্ডনের পরিবহণ সংস্থা টিএফএলে কাজ করছেন।

১৮৬৩ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডনে প্রথম পাতাল রেল চলেছিল। ওই যুগে এক স্টিম ইঞ্জিন সুড়ঙ্গের মধ্যে ট্রেনের ওয়াগন টানতো। গ্যাসের বাতি দিয়ে সেই ট্রেনে আলোর ব্যবস্থা করা হতো। প্রথম দিকে সুড়ঙ্গ ভূপৃষ্ঠের বেশি গভীরে ছিল না।

বেকার স্ট্রিট স্টেশনে অ্যান স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের নেটওয়ার্কের সবচেয়ে পুরানো স্টেশনগুলোর একটি। ১৮৬৩ সালে মেট্রোপলিটন রেলওয়ের মূল রুটের অংশ হিসেবে এই স্টেশন চালু করা হয়েছিল। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো মেট্রো সিস্টেম। প্যাডিংটন থেকে ফ্যারিংডন পর্যন্ত মেট্রোপলিটন রেলওয়ের মূল রুটে সাতটি স্টেশন ছিল। বেকার স্ট্রিট সেগুলোরই একটি। ১৯৮০ এর দশকে এই প্ল্যাটফর্মগুলো ১৮৬৩ সালের মতো করে আবার গড়ে তোলা হয়েছিল।’

আনুষ্ঠানিক নাম লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড হলেও রুটের মাত্র ৪৫ শতাংশ মাটির নিচে রয়েছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরের অংশে ট্রেনগুলো মাটির ওপরেই চলে। শহরের উত্তরে কিছুটা পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে গভীর স্টেশনটি রয়েছে। হ্যাম্পস্টেড স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ৫৫ দশমিক দুই মিটার গভীরে অবস্থিত।

সেটা অবশ্য বিশ্ব রেকর্ড ছুঁতে পারে না। বিশ্বের গভীরতম পাতাল রেল স্টেশন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রয়েছে। আর্সেনালনা স্টেশন ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৫ দশমিক পাঁচ মিটার গভীরে অবস্থিত।

বিশ্বের অনেক মেট্রো সিস্টেম লন্ডনের একটি বৈশিষ্ট্য নকল করেছে। সেটা হলো নেটওয়ার্কের নক্সা। সেই ম্যাপের বিশেষ ডিজাইনের ক্ষেত্রে রাস্তাঘাট বা দূরত্বের বাস্তব প্রতিচ্ছবিকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

অ্যান গ্যাভাগ্যান বলেন, ‘আসলে ১৯৩০ এর দশকে হ্যারি বেক নামের এক ইলেকট্রিকাল ড্রাফটসম্যান সেটি ডিজাইন করেছিলেন। তিনি এই মানচিত্র তৈরি করেন। প্রথমে তিনি অনেক প্রতিরোধের মুখে পড়েন। প্রায় দু’বছর পর আন্ডারগ্রাউন্ড সেটি গ্রহণ করে। তারা সেটির ব্যবহার শুরু করে। এখন এটি আইকন হয়ে উঠেছে।’

পুরানো এই ম্যাপগুলো লন্ডন টিউবের বাস্তব রুট ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু সেই রুট প্রায়ই আঁকাবাঁকা পথে অবস্থিত।

সুড়ঙ্গের আকারের কারণে পাতাল রেলকে ‘টিউব’ অর্থাৎ নল বলা হয়। ১৮৯০ সালে সেই ডাকনামের প্রচলন ঘটে। অতীতে জমির ওপরের রাজপথ বরাবর লাইন পাতা হতো। তবে রেলের ওয়াগনগুলো দীর্ঘ ও সোজা হওয়ার কারণে বিপজ্জনক ফাঁক সৃষ্টি হতে লাগল। স্টেশন এমব্যাংকমেন্টে সেই ফাঁকগুলোর আকার বেশ বড়। ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো বিখ্যাত সাবধানবাণী শোনা যায়। ‘মাইন্ড দ্য গ্যাপ’ বা প্ল্যাটফর্ম আর ট্রেনের মাঝে ফাঁকা অংশ সম্পর্কে সাবধান করে দেয়ার স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা আজ সবার জানা আছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ



premium cement