১৮ মে ২০২৪, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪৩১, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫
`


চীনে কোভিড নীতি সমালোচকদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ

চীনে কোভিড নীতি সমালোচকদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ - ছবি : সংগৃহীত

কোভিড প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সরকারী নীতির সমালোচনা করা এক হাজারেরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা বন্ধ করেছে চীন। কারণ দেশটি কঠোর অ্যান্টিভাইরাস বিধিনিষেধ ফিরিয়ে আনতে চলেছে।

দেশটির জনপ্রিয় সিনা ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বলেছে, তারা বিশেষজ্ঞ, পণ্ডিত এবং চিকিৎসা কর্মীদের উপর আক্রমণসহ ১২ হাজার ৮৫৪টি লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত করেছে, এছাড়া ১ হাজার ১২০টি অ্যাকাউন্টকে অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি চীনের কঠোর লকডাউন, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা এবং গণ পরীক্ষার ন্যায্যতা দেয়ার জন্য চিকিৎসক সম্প্রদায়ের উপর অনেকাংশে নির্ভর করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রায় সব নিষেধাজ্ঞাই গত মাসে তারা পরিত্যাগ করে। ফলে নতুন সংক্রমণ এতটাই বেড়ে গেছে যে চিকিৎসা সংস্থানগুলো তাদের প্রায় প্রান্তসীমায় পৌঁছে গেছে। তবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সরাসরি সমালোচনার অনুমতি দেয় না এবং বাকস্বাধীনতার উপর কঠোর সীমা আরোপ করে।

সিনা ওয়েইবো বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, কোম্পানিটি ‘সব ধরনের অবৈধ বিষয়বস্তুর তদন্ত ও ছাঁটাই অভিযান বাড়াবে এবং অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য একটি সমন্বিত বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ তৈরি করবে।’

সমালোচনাগুলো মূলত প্রবিধানের কঠোর প্রয়োগের উপর আলোকপাত করে, যার মধ্যে প্রকাশ্যে ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। দেখা যায় যে- সেখানে লোকেরা কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের বাড়িতে অবরুদ্ধ ছিল, কখনো কখনো পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসা পরিষেবা ছাড়াই তাদের ভেতরে আটকে রাখা হয়। যে কেউ পরীক্ষায় সম্ভাব্য পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছেন, কিংবা এই জাতীয় ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, তাকে একটি ফিল্ড হাসপাতালে পর্যবেক্ষণের জন্য আবদ্ধ রাখতে হবে। ওই ফিল্ড হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্ন মানের খাবার এবং স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া এর প্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল।

শনিবার পাঁচটি সরকারি বিভাগ থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, চীন আর সীমান্ত কোয়ারেন্টিন প্রবিধান লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দেয়া হবে।

ভাইস মিনিস্টার জু চেংগুয়াং এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, গণ পরিবহন ব্যবহারকারীদেরও মুখে মাস্ক পরতে এবং তাদের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবুও, চীন রোববার থেকে বিদেশ থেকে আগত লোকদের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

শহর শিক্ষা ব্যুরো শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ছুটি শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ক্লাস শুরু হলে বেইজিং শহরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য নেগেটিভ কোভিড পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বাদ দেয়ারও পরিকল্পনা করেছে। যদিও নতুন প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে স্কুলগুলিকে অনলাইনে ক্লাস করার অনুমতি দেয়া হবে, এবং তাদের অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি শিক্ষার নির্দেশে ফিরে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও চীন থেকে তথ্য-উপাত্তের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিকে, চীন থেকে ভ্রমণকারীদের জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার নেগেটিভ ফলাফল প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


আরো সংবাদ



premium cement