২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধামকিতেও অনড় তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধামকিতেও অনড় তুরস্ক - সংগৃহীত

এস-৪০০ ক্রয় ইস্যুতে তুরস্ককে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে অনড় বলেই সেদেশের নেতাদের নানা বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার জন্য কারো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আমেরিকার নতুন হুমকির পর সম্প্রতি কিরগিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন,আমরা এস-৪০০ কেনার বিষয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করেছি। এর ফলে কেউ খেপেছে। তবে এজন্য আমাদের কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র তুরস্ককে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ন্যাটো-রাষ্ট্রে নিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থাকে আমরা ন্যাটোর সাথে যুক্ত করতে পারি না। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এক মার্কিন পাদ্রীর বিচারকে কেন্দ্র করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন বেড়েছে। এছাড়া আগের চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান দিতে গড়িমসি করছে আমেরিকা।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান- দুটোই চায় তুরস্ক
ডেইলি সাবাহ, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ‍যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ ফাইটার জেট- দুটোই দরকার তুরস্কের। এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শুক্রবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া কোন সিদ্ধান্ত মানবে না তুরস্ক।

রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টির শুরু থেকেই বিরোধীতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন তুরস্কের, যে কারণে আমরা চুক্তি করেছি। দ্রুতই এটি আমরা আনব। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের অংশীদার তুরস্ক, এটিও প্রয়োজন আমাদের। ইতোমধ্যেই এজন্য আমরা ৯ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছি এবং নিয়মিত কিস্তির অর্থ পরিশোধ করে চলছি।’ তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ডেলিভারি না দেয় অন্য কোথাও থেকে তা কিনবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্ক কেন রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে সেটি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধীতা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে রাশিয়ার এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমরাস্ত্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক পিকেকে গোষ্ঠিকে সমর্থন, তুরস্কের রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বিরোধসহ অনেক বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও এরদোগান প্রশাসন পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। অথচ দীর্ঘ ছয় দশক ধরে দেশ দুটির মিত্রতা।

এরদোগান বলেন, তুরস্কের যখন প্রয়োজন তখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো খোঁড়া অজুহাতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে; কিন্তু আমরা যখন অন্য কোন জায়গা থেকে অস্ত্র কিনতে চাই তখন তারাও বিক্রি করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যখন তুরস্কের কিলিস, গাজিয়ানতেপ, রেহানলি, কিরিখান প্রদেশগুলোতে সিরিয়া থেকে ১২৭টি রকেট, কামান ও মর্টারের গোলা ছোড়া হয়েছে তখন তারা কী করেছে। আমাদের ৭ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক। তারা তখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে।’


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme