১৪ নভেম্বর ২০১৮

সিরিয়ায় কতদিন লড়াই করবে রাশিয়া?

সিরিয়ায় কতদিন লড়াই করবে রাশিয়া? - সংগৃহীত

সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীরা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখবে রাশিয়া। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর পর একথা জানিয়েছে মস্কো।

রাজধানী মস্কোয় সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, যুদ্ধবিরতি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছিল তা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করা রাশিয়ার দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি এবং যতক্ষণ সন্ত্রাসীরা পুরোপুরি নির্মূল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো ততাকফিরি জাবহাত ফতেহ আশ-শামের অবস্থানে বোমা হামলা শুরু করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর জাখারোভা সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা নতুন করে জানিয়ে দিলেন।

জাখারোভা আরো জানান, রুশ বিমানগুলো শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে, বেসামরিক লোকজনের ওপর নয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা ইদলিব থেকে সিরিয়ার সেনা ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলার পাশাপাশি রুশ সেনাদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। সে কারণে তাদেরকে নির্মূল অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়েছে মস্কো।

সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার ৬৩ হাজার সেনা
বিবিসি, ২৫ আগস্ট ২০১৮

সিরিয়ার যুদ্ধে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে রাশিয়া। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সিরিয়ায় ৬৩ হাজারের বেশি রাশিয়ান সেনা যুদ্ধ করেছে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার মতাসীন বাশার আল-আসাদের পে যুদ্ধের ফল আনা গেছে। রাশিয়ার প্রতিরা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী কিংবা সিরিয়াবাসীর হতাহতের কোনো খবর ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার প্রতিরামন্ত্রী সের্গেই সিইগু গত বছর শেষের দিকে বলেছিলেন, ৪৮ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, রাশিয়ার বিমান হামলায় কমপে ৭ হাজার ৯২৮ জন বেসামরকি নাগরিক এবং ১০ হাজার ৬৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের ভিডিওতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী সিরিয়ায় ২৩১ ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরাব্যবস্থা ও ক্রুজ পেণাস্ত্র। গত তিন বছরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অবস্থানকে দৃঢ় করার েেত্র মিত্র হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করেছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার মতাসীন বাশার আল-আসাদের পে যুদ্ধের ফল আনা গেছে।

সিরিয়ায় মোতায়েন করা রুশ সেনাদের মধ্যে গত তিন বছরে ৪৩৪ জন জেনারেল ছিলেন। এ ছাড়া এই সেনাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ছিলেন পাইলট যোদ্ধা, যারা সিরিয়ায় যুদ্ধবিমান চালিয়ে হামলা করেছে। উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদ্রিলের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, যেখানে ২০ লাখ লোক বাস করে। মস্কোর কর্মকর্তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ান বিমান হামলা শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের ল্য করেই। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, তারা বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের আক্রমণ করেছে।

জাতিসঙ্ঘের যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরা বলেছেন, রাশিয়ান ও সিরিয়ার সরকার বিমান হামলা চালিয়েছে হাসপাতালে, স্কুলে ও বাজারে। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সুরতি। অবশ্য উভয় দেশের সেনারাই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আইএস গ্রুপের সাথে যুদ্ধরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোট বলেছে, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সিরিয়া ও প্রতিবেশী ইরাকে ২৯ হাজার ৮২৬ বার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্তত ১০৫৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। একটি সংস্থার হিসাবে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার বেসামরিক মানুষ মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন দাবি করেছেন, সিরিয়া রাশিয়ায় আটকে পড়েছে। তিনি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, মস্কো সিরিয়া থেকে ইরানি সেনাদের প্রত্যাহার করাতে পারছে না। আমি মনে করি না যে তারা সেখানে এভাবেই থাকতে চায়। আমি মনে করি, ইউরোপে রাশিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রমাণ করে তারা সেখানে অন্য কাউকে চায়। যেমন- সিরিয়াকে পুনর্গঠনের অর্থ অন্য কোনো দেশ বহন করুক। তারা হয়তো এতে সফল বা বিফল হতে পারে। পুতিন ট্রাম্পকে আরো বলেছেন, সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়ার স্বার্থ এক না। তাই আমরা তার সাথে আলোচনা করতে চাই তারা কোন ভূমিকা পালন করতে পারে।


আরো সংবাদ