১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জ্বালাময়ী বক্তৃতায় সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করেছেন পগবা

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক পল পগবা - ছবি : এএফপি

বিশ্বকাপের মহারণে সতীর্থদের উদ্বীপ্ত করতে ফরাসি মিড ফিল্ডার পল পগবা সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের তাতিয়ে দেয়ার দায়িত্বটা পগবাকেই দিয়েছিলেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রাউন্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে দেয়া ফ্রান্সের মিডফিল্ডার পল পগবার একটি বক্তব্য সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। ওই ম্যাচের জন্য পগবা কিভাবে তার টিমমেটদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তার কিছু নজির পাওয়া গেছে সেই বক্তৃতা থেকে। পগবা সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা বাড়ি ফিরে যেতে আসিনি। সামনে মেসি আসুক কিংবা অন্য কেউ, আজ তাদের স্রেফ খুন করবে’।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের দুই দিন পর এই ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৪-৩ গোলে জেতা ম্যাচের সময় পগবা কিভাবে তার দলের খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করেছেন তা জানা গেছে কিছু ভিডিও ও অডিও ক্লিপ থেকে। ফ্রান্সের টিএফ-১ টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে এ বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র। আর তাতেই জানা গেছে পল পগবার কেই জ্বালাময়ী বক্তৃতার কথা।

পগবা তার সতীর্থদের বলেছেন, ‘বন্ধুরা, মাঠে আমি সবাইকে যোদ্ধা হিসেবে দেখতে চাই। আমি এখনই বাড়ি ফিরে যেতে চাই না!’ বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলা এই মিডফিল্ডার সেদিন আরো বলেছিলেন, ‘আমি হাসি মুখে ম্যাচ শেষ করতে চাই। আজ রাতে পার্টি করতে চাই। প্রয়োজনে মাঠেই মারা যাব, সবাই একসাথে। আমি চাই সবাইকে যোদ্ধা, সৈনিক হিসেবে’।

এরপর প্রতিপক্ষের প্রসঙ্গে টেনে পগবা ফ্রান্সের ফুটবলারদের বলেন, ‘আজ তাদের শেষ করে দেব। মেসি কিংবা অন্য যেই আসুক সেটা দেখার সময় নেই। আমরা বিশ্বকাপ জিততেই এখানে এসেছি’।

এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচেও একই রকমভাবে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের পেছনে ফেরার সুযোগ নাই। আমাদের জয়ের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেব আমরা। সবাই একসাথে ১৫ ‍জুলাই(ফাইনালে) মাঠে নামতে চাই।’

সুয়ারেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে পগবা আরো বলেন, ‘(কার্ড সমস্যার কারণে) আজ মাতুদি মাঠে নামতে পারছে না। সে হতাশ, বিরক্ত। মাঠে সে যে কারো চেয়ে বেশি দিতে চায়। সে চায় আমরা তবু লড়াই করি। দূর থেকেও সে আমাদের সঙ্গে থাকবে। সবাইকে নিজের সেরাটা দিতে হবে।’

পগবা বলেন, ‘আমরা আমাদের জন্য লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছি, আগে যেমনটি আমরা করেছি। সেরা সাফল্যের জন্য আমাদের সেরা দলকেই পরাজিত করতে হবে’।

পগবার বক্তৃতার কী ফল হয়েছে সেটি সবাই দেখেছে। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, বেলজিয়াম ও সর্বশেষ ক্রোয়েশিয়াকে গুড়িয়ে দিয়ে ফ্রান্সই জিতেছে রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা। ১৯৯৮ সালের পর এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা।

আরো পড়ুন :

সেরা বিশ্বকাপ, রাশিয়া বিশ্বকাপ!
বিশ্বকাপ ২০১৮ শেষ হওয়ার আগে থেকেই কথাটা মুখে মুখে ঘুরছিল- এটাই কি এ যাবৎকালের সেরা বিশ্বকাপ? প্রথম দিনের খেলা স্বাগতিক রাশিয়া সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দিলো, সেদিন থেকেই এ টুর্নামেন্টে নাটকীয়তা আর উত্তেজনার কোনো অভাব ছিল না। গ্রুপ পর্ব, নকআউট পর্ব এমনকি ফাইনালেও তেমন খেলাই দেখা গেছে - যেমন খেলা ফুটবলভক্তরা দেখতে চান।

আজকাল লোকে প্রচুর ফুটবল খেলা দেখেন টিভিতে - বেশিরভাগই ক্লাব ফুটবল। কিন্তু বিশ্বকাপ আসে প্রতি চার বছরে একবার। তাই তার ভেতরে এখনও একটা অন্যরকম আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়ে গেছে যা কোথাও পাওয়া যায় না।

বিশ্বকাপে কিভাবে এই নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে

ফুটবল লিগের উত্তেজনা চলে সারা বছর ধরে ধিকিধিকি করে। বিশ্বকাপ অন্যরকম। এখানে উত্তেজনা তৈরি করে দপ করে জ্বলে ওঠার মতো। ২০১৮-তেও তাই হয়েছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেই স্পেন আর পর্তুগালের ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া খেলাটি, আর রোনালদোর অসাধারণ ফ্রিকিক - সেই খেলাটিকে ক্লাসিকের স্বীকৃতি এনে দেয়। কিন্তু শুধু ওই খেলাটিই নয়, সেদিনের অন্য দুটি খেলাও নাটকীয়তায় কম যায়নি।

উরুগুয়ে ৮৯ মিনিটে গোল করে জিতে যায় মিসরের বিরুদ্ধে, ইরান হারায় মরক্কোকে ৯৫ মিনিটে গোল করে। সবমিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচে জয়সূচক গোল হয়েছে খেলার শেষ মিনিটে বা ইনজুরি টাইমে। এ ছাড়াও শেষ মিনিটে বা ইনজুরি টাইমের গোলে খেলা ড্র হয়ে গেছে এমন ম্যাচ ছিল চারটি। এর আগের কোনো বিশ্বকাপে এমনটা হয়নি।

বিশ্বকাপে চমক থাকতে হবে, তবে খুব বেশি নয়

ফেভারিট দলগুলো বিশ্বকাপে দর্শক টানে। তারা সবাই যদি আগেভাগেই হেরে গিয়ে বিদায় নেয়, তাহলে বোধ হয় টুর্নামেন্টের আকর্ষণ কমে যায়। এবার গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। আর নকআউট পর্বে বিদায় নিয়েছে স্পেন, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপকে আকর্ষণীয় করতে চাই সুপারস্টার

স্পেনের বিরুদ্ধে রোনালদোর হ্যাটট্রিক ছিল দারুণ, কিন্তু তিনি একাই পর্তুগালকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করবেন, তেমনটা হয়নি। মেসিও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে পারেননি। তাদের ক্লাবের পারফরমেন্স বিবেচনা করলে ভেবে অবাক হতে হয় যে তারা দু'জনের কেউই বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি।

আশা করা হয়েছিল, এবারের বিশ্বকাপে সুপারস্টার হবেন নেইমার। কিন্তু তিনি এবং এডিন হ্যাজার্ড সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন - যথাক্রমে ২৬ এবং ২৭ বার। নেইমারের ক্ষেত্রে বরং অনেকের চোখে দৃষ্টিকটু লেগেছে আঘাত পেয়ে পড়ে গিয়ে তার নাটক করা।

বরং এবারের বিশ্বকাপে তারকা হিসেবে বেরিয়ে এসেছেন কিলিয়ান এমবাপে। পেলের পর তিনি হলের প্রথম টিনএজার যিনি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে গোল করলেন।


আরো সংবাদ