০৯ মে ২০২১
`

আসামে মাওলানা আজমলের চমক

বদরুদ্দিন আজমল - ছবি : সংগৃহীত

আসামের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ১২৬ সদস্যবিশিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় সরকারি দলের কোনো মুসলিম সদস্য নেই। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি একজন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল, তিনি পরাজিত হয়েছেন।

বিজেপি, অসম গণপরিষদ (এজিপি) ও বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ((বিপিএফ) জোট ২০১৬ সালের নির্বাচনে ৮৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এতে মাত্র একজন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। তিনি হলেন আমিনুল হক লস্কর। বিজেপি এবার বিপিএফকে বাদ দিয়ে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলক জোটসঙ্গী করে।

লস্কর পরিষদের ডেপুটি স্পিকার হয়েছিলেন। এবারো তিনি প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার সোনাই আসনে তিনি বদরুদ্দিন আজমলের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) প্রার্থীর কাছে ১৯,৬৫৪ ভেটে হেরে গেছেন।

এআইইউডিএফ এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় মহাজোটের অংশীদার ছিল। নির্বাচনে এই জোট ৫০টি আসন পায়। আর বিজেপি জোট ৯৫টি আসনে জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

আসামে সরকার দলে কোনো মুসলিম এমএলএ বা বিধায়ক না থাকলেও বিরোধীদের আছে ৩১ জন। ১৯৮৩ সালের পর (ওইবার মুসলিম ছিল ৩৩ জন) এবারই রাজ্য বিধানসভায় সর্বাধিক সংখ্যক মুসলিম প্রবেশ করছেন।

মহাজোট থেকে নির্বাচিত ৩১ জন মুসলিমের মধ্যে ১৬ জন হলেন কংগ্রেসের, ১৫ জন আজমলের এআইইউডিএফের। এআইইউডিএফ মাত্র ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই সাফল্য পেয়েছে। তাদের সফলতার হার ৮০ ভাগ। আর কংগ্রেসের হয়ে ৯৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাফল্যের হার ৩০.৫২ ভাগ।

ফলে বদরুদ্দিন আজমলের ভিত আরো মজবুত হলো এই নির্বাচনের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, তিনি একইসাথে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবি, লোকহিতৈষী ও আলেম। আতরের ব্যবসায় তার বেশ সুনাম রয়েছে।

উল্লেখ্য, বদরুদ্দিন আজমল একইসাথে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের আসাম রাজ্যের সভাপতি এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য। আজমল ভারতের লোকসভারও সদস্য। ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করা আজমল তার দলটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৫ সালে। তিনি ধুবরি আসন থেকে তিনবারের এমপি। তিনি নিয়মিতভাবে বিশ্বের ৫০০ সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়ে থাকেন।

আসামে আজমলের উত্থান আজ থেকে ৩০ বছর আগে । সেখানে জাতি ধর্ম বর্ণ বৈষম্য না করে অসহায় গরিব ছিন্নমূল মানুষের জন্য তিনি গড়ে তোলেন একের এক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। গড়েন হাসপাতাল, মসজিদসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য আজমলের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অসমে যেমন শিক্ষার হার বাড়ছে একইভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক।

একজন রাজনীতিবিদ আজমলের থেকেও তিনি বেশি পরিচিত দাতা ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে।
তার এসব কর্মকাণ্ডই তাকে আসামসহ গোটা ভারতের উদাহরণ দেয়ার মতো আইডলে পরিণত করেছে।



আরো সংবাদ