২০০২ বিশ্বকাপের সেই রাত এখনোও ভুলতে পারেনি ফরাসি ফুটবল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে নিয়ে মাঠে নেমেও আফ্রিকার নবাগত সেনেগালের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দেশ।
সেবার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল ‘তেরেঙ্গা লায়ন’রা। দুই যুগেরও বেশি সময় পর আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও সেনেগাল। তবে এবার দৃশ্যপট ভিন্ন।
মাঠের বাইরে ফ্রান্সের ডাগআউটে আছেন সেই দিদিয়ের দেশম, আর মাঠে নেতৃত্ব দেবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও নতুন প্রজন্মের তারকারা। লক্ষ্য একটাই—পুরোনো হিসাব চুকিয়ে দেয়া।
বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ লড়াই।
শুধু প্রতিশোধের গল্পই নয়, ম্যাচটি দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র জীবিত ব্যক্তি তিনি। এবার কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু করছেন সেনেগালকে দিয়েই।
ফ্রান্স এবারের আসরের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। বাছাইপর্বে টানা আট জয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে একবার হোঁচট খেলেও শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরেছে ফরাসিরা।
সবচেয়ে বড় নজর থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ গোল করা এই সুপারস্টার আর মাত্র এক গোল করলেই স্পর্শ করবেন ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুর রেকর্ড।
ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। দুটি বিশ্বকাপ খেলেও এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। সেনেগালের বিপক্ষে সেই অপেক্ষা ফুরানোর আশা করছেন সমর্থকেরা।
অন্যদিকে সেনেগালও আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে এসেছে তারা। সাদিও মানে ও নিকোলাস জ্যাকসনের মতো তারকাদের নিয়ে বড় চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে দলটা।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছে সেনেগাল। রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ২০২২ সালে কাতারে শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। এবার হয়তো সেই মাইলফলকও পেরিয়ে যেতে চাইবেন।
সর্বশেষ আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপাও জিতেছিল তারা। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আফ্রিকার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ‘কেড়ে নেয়া হয়’ সেনেগালের কাছ থেকে।
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে মরক্কোকে হারালেও, ম্যাচের মাঝে মাঠ ছেড়ে উঠে যাওয়ায় তাদেরকে পরাজিত দল ঘোষণা করা হয়। তবে মাঠের খেলায় অবশ্য বিজয়ী ছিল তারাই।
এদিকে, এ ম্যাচের আরেকটি আবেগঘন দিক জড়িয়ে আছে সেনেগালের কোচ পাপ চাওকে ঘিরে। ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারানো ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি ছিলেন সেনেগালের বেঞ্চে। এবার কোচ হিসেবে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দাঁড়াবেন।
চাওয়ের ভাষায়, ‘২০০২ সালে বেঞ্চে বসে ইতিহাসের সাক্ষী ছিলাম। এবারো বেঞ্চে থাকব, তবে পার্থক্য হলো দলের দায়িত্ব থাকবে আমার হাতে।’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাই ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে যাচ্ছেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি প্রতিশোধের নতুন অধ্যায়। উত্তর মিলবে মাঠের ৯০ মিনিটেই।



