ইংল্যান্ডের সামনে কঙ্গো-পরীক্ষা, আরেকটি অঘটনের অপেক্ষায় বিশ্বকাপ?

গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে কঙ্গোর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। শাঁসেল এমবেম্বার নেতৃত্বে দুর্দান্ত রক্ষণ গড়ে তুলে প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই নিষ্ক্রিয় রাখা হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। পুরো ম্যাচে পর্তুগাল লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষেও একই কৌশলে লড়াই করে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে হারে কঙ্গো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিদিনই যেন দেখা মিলছে নতুন চমক। প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানির বিদায়, মরক্কোর বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হার—এসব ফলের পর আর কোনো ম্যাচকেই সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো লড়াইও।

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড স্পষ্ট ফেবারিট হলেও ডিআর কঙ্গোর এবারের পারফরম্যান্স বলছে, টমাস টুখেলের দলের জন্য এটি মোটেও সহজ পরীক্ষা হবে না।

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গো ইতোমধ্যেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে তারা শুধু অংশগ্রহণ করতেই আসেনি।

গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে কঙ্গোর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। শাঁসেল এমবেম্বার নেতৃত্বে দুর্দান্ত রক্ষণ গড়ে তুলে প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই নিষ্ক্রিয় রাখা হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। পুরো ম্যাচে পর্তুগাল লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষেও একই কৌশলে লড়াই করে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে হারে কঙ্গো।

কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের অধীনে কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা। সাধারণত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলান তিনি। বলের দখল প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের অর্ধে রক্ষণ শক্ত করেন, এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। প্রয়োজন হলে অবশ্য কৌশলও বদলান তিনি। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন এনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দেসাব্রে।

কঙ্গোর আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভরসা ইয়োয়ানে উইসা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিন গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি। তার সাথে সেড্রিক বাকাম্বু ও ফিস্টন মায়েলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণে হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে উঠলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর ঘানার সাথে গোলশূন্য ড্র এবং পানামার বিপক্ষে গোল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে টুখেলের দলকে। আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব এখনো স্পষ্ট।

ইনজুরিও ভাবাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। রিস জেমসের পর জ্যারেল কোয়ানসাহও ছিটকে যাওয়ায় ডান প্রান্তে পরিবর্তন আনতে হতে পারে টুখেলকে। তবে ডেক্লান রাইসের ফেরার সম্ভাবনা মাঝমাঠে ভারসাম্য এনে দিতে পারে।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। পাশাপাশি বুকায়ো সাকা ও ননি মাদুয়েকের গতি কঙ্গোর রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের অবস্থান চার নম্বরে, আর ডিআর কঙ্গো রয়েছে ৪৬তম স্থানে। তবে নকআউট ফুটবলে র‍্যাঙ্কিং কিংবা অতীতের সাফল্য খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের পর সেই সত্য আরো স্পষ্ট হয়েছে।

তাই আজকের ম্যাচে চাপটা থাকবে ইংল্যান্ডের ওপরই। অন্যদিকে হারানোর কিছু নেই—এমন মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে ডিআর কঙ্গো। এখন দেখার বিষয়, টমাস টুখেলের দল কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে পারে, নাকি বিশ্বকাপ উপহার পায় আরো একটি বড় অঘটন।