ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশের সব ছবি মুছে দিলেন কিউবা মিচেল

বর্তমানে ইংল্যান্ডের নিচের সারির দল স্ট্র্যাটফোর্ড টাউন এফসিতে খেলছেন মিচেল। জাতীয় দলে ফেরার পথে ট্রায়ালের সিদ্ধান্তে তার এই নীরব প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেয়, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কিউবা মিচেল
কিউবা মিচেল |সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক না পেয়ে ক্ষোভ-অভিমান উগড়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী মিডফিল্ডার কিউবা মিচেল। বাংলাদেশের জাতীয় দল ও সংশ্লিষ্ট নিজের ইনস্টাগ্রামের সব ছবি ও পোস্ট মুছে দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলেও ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি মিচেলের। প্রধান কোচ টমাস ডুলি তাকে সরাসরি মূল দলে না রেখে আগে ট্রায়ালে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পরই ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত পোস্ট ও ছবিগুলো সরিয়ে নেন মিচেল।

মিচেলকে মূল ক্যাম্পে না ডেকে ট্রায়ালে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। তবে সেই যাত্রার বিমানের টিকিটও আপাতত নিজের খরচে কাটতে হবে তাকে। ট্রায়ালে পারফরম্যান্স দিয়ে যদি বর্তমান স্কোয়াডের অন্যদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারেন এবং জাতীয় দলে জায়গা পান, তখন তার ফ্লাইটের খরচ বহন করবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

মিচেলকে সরাসরি দলে না নেয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ডুলি। তার বক্তব্য, কিউবাকে তিনি যথেষ্ট কাছ থেকে খেলতে দেখেননি। ফলে নতুন কোচিং স্টাফের সামনে তাকে আগে দেখে নেয়াটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

ডুলি আরো বলেন, কিউবা যদি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা প্রথম বা দ্বিতীয় বিভাগের কোনো ক্লাবে খেলতেন, তাহলে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হতো। কিন্তু বর্তমানে ইংল্যান্ডের নিচের সারির একটি দলে খেলা মিচেলকে না দেখে সরাসরি জাতীয় দলে নেয়ার পক্ষে নন তিনি।

শুধু কিউবা মিচেলই নন, আরো কয়েকজন খেলোয়াড়কে একইভাবে যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের। গোলরক্ষক সাইফ, সুকি ইতফকা, অনূর্ধ্ব-২০ দলে থাকা অ্যাডাম আব্বাস ও জিদানকে ২-৩ দিনের অনুশীলনে পরখ করা হবে। তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে কিউবা কেন ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশের সব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন, সে বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি তার অভিমান বা হতাশার বহিঃপ্রকাশ কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশে মিচেলকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বকেয়া বেতনের অভিযোগ তুলে বসুন্ধরা কিংস ছাড়েন তিনি। তিন বছরের চুক্তি থাকলেও মাত্র ছয় মাসের মাথায় ক্লাবটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইংল্যান্ডে ফিরে যান এই তরুণ।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের নিচের সারির দল স্ট্র্যাটফোর্ড টাউন এফসিতে খেলছেন মিচেল। জাতীয় দলে ফেরার পথে ট্রায়ালের সিদ্ধান্তে তার এই নীরব প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেয়, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।