সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশী সমর্থকের উদ্দেশে হৃদয়ছোঁয়া বার্তা দিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। জানিয়েছেন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় মুগ্ধ তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই কোচ জানান, বাংলাদেশের সমর্থন তাদের সবসময়ই বিস্মিত করে। এবার সেমিফাইনালে জয় এনে সেই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। সত্যি বলতে এটা অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সবসময়ই চমকে দেয়। এত দূরে থেকেও তারা আর্জেন্টিনাকে এত ভালোবাসে, এটা সত্যিই অসাধারণ।’
‘নিজের দেশের বাইরেও অন্য দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়াতে দেখাটা দারুণ অনুভূতি। বাংলাদেশকে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আজ আমরা বাংলাদেশের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। এজন্যই তো আমরা এখানে এসেছি।’
বাংলাদেশের প্রসঙ্গের পর নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, সমালোচনা থাকলেও আর্জেন্টিনা মোটেও খারাপ খেলেনি। টানা আরেকটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠাকে তিনি দলের কঠোর পরিশ্রমেরই ফল বলে মনে করেন।
স্কালোনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে উঠতে হলে নিশ্চয়ই আমরা ভালো কিছু করেছি। আমি এই ছেলেদের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ ওরাই আবার আমাদের বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে নিয়ে এসেছে। আমরা অনেক ভালো কাজ করেছি। কখনো কখনো তা যথেষ্ট মনে হয় না, কিন্তু এখান পর্যন্ত যা করেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত।’
নকআউট পর্বের কঠিন পথ পেরিয়ে সেমিফাইনালে এসেছে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির বিশ্বাস, বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করতেই হয়।
তার ভাষায়, ‘সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠতে হলে ভুগতেই হয়, যদি না প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনি অনেক এগিয়ে থাকেন। আগের বিশ্বকাপেও আমরা অনেক ম্যাচে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেও ভুগেছি। বিশ্বকাপে প্রতিকূলতা সামলে এগিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটির প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন স্কালোনি। তবে তাদের রুখতে নিজেদের পরিকল্পনাও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলে, ‘এটি আগের ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি লড়াই হবে। আমরা যে জায়গাগুলোতে ভালো করতে পারিনি, সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। কেইন ও বেলিংহ্যাম এমন দুই ফুটবলার, যাদের যে কোনো কোচই দলে চাইবেন। তবে তাদের থামাতে আমাদেরও নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথকে ঘিরে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গও ওঠে। তবে স্কালোনি স্পষ্ট করে দেন, ইতিহাসের সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের সাথে ফুটবলকে এক করতে চান না তিনি।
তার কথায়, ‘এটা শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছে, তা বদলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। ইতিহাসকে আমরা অবশ্যই স্মরণ করি, কিন্তু ফুটবলকে যুদ্ধের সাথে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়।’
‘যারা সেই সময়ে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি; এটি বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল, এর বেশি কিছু নয়।’ যোগ করেন স্কালোনি।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বুধবার রাত ১টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জয়ী দল আগামী ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে ।



