বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে শক্তিশালী ইকুয়েডরের বিপক্ষে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করেছে ক্যারিবীয় দেশ কুরাসাও। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়, যেখানে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দেখান কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রম।
রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। বলের দখল, আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। কিন্তু কুরাসাওয়ের গোলবারের নিচে অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এলয় রম।
পুরো ম্যাচে ইকুয়েডর ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ১৫টি ছিল লক্ষ্যে। তবে প্রতিবারই অসাধারণ দক্ষতায় সেগুলো প্রতিহত করেন রম। তার ১৫টি সেভের সুবাদে গোলের দেখা পায়নি ইকুয়েডর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর অতিরিক্ত সময় ছাড়া কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে একজন গোলরক্ষকের এটিই সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।
ম্যাচে ইকুয়েডর বলের দখল রাখে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে কুরাসাও তুলনামূলক কম আক্রমণ করলেও সুযোগ পেলে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে। দলটি ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে। তবে তারাও গোল আদায় করতে পারেনি।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ও বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের জন্য এই ড্র বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট অর্জন করে তারা টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট ঘরে তুলেছে।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ইকুয়েডরের জন্য এই ড্র বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। দুই ম্যাচ শেষে দলটির নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখন কঠিন সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ২৬ জুন জার্মানির মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো ফল তাদের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। একই দিনে কুরাসাও খেলবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। ফলে ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে নকআউটের লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



